চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় ট্রেকিং

স্থান

সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

উচ্চতা

প্রায় ১,১৫২ ফুট

ট্রেকিং সময়

২ থেকে ৩ ঘণ্টা

ডিফিকাল্টি লেভেল

মাঝারি (খাড়া সিঁড়ি)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক সংলগ্ন চন্দ্রনাথ পাহাড় ট্রেকার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে চিরচেনা এক রোমাঞ্চ। প্রায় ১,১৫২ ফুট উঁচু এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ মন্দির। নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ আর উপরে মেঘের মেলা—এই দুইয়ের মেলবন্ধন যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

ভ্রমণ শুরুর গল্প ও যাত্রা

ভোরবেলা চট্টগ্রাম শহর থেকে রওনা দিয়ে সীতাকুণ্ড বাজার পৌঁছাতে সকালের নরম রোদ কেবল গাছের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গেট পেরিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালাম। এখান থেকেই শুরু আসল শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা। চন্দ্রনাথ ওঠার দুটি পথ রয়েছে—বাম দিকের খাড়া পাহাড়ি পথ এবং ডান দিকের সিঁড়ির পথ। অভিজ্ঞ ট্রাভেলারদের পরামর্শ মেনেই আমরা বাম দিকের তুলনামূলক খাড়া পাহাড়ি ট্রেইল ধরে ওঠা শুরু করলাম।

চন্দ্রনাথ পাহাড় ট্রেইল
পাহাড়ের চূড়ার দিকে এগিয়ে চলা সবুজ আঁকাবাঁকা পথ।

মেঘ ও সিঁড়ির রোমাঞ্চ

যত উপরে ওঠা যায়, বাতাসের আর্দ্রতা আর ঝিরিঝিরি ঠান্ডা হাওয়া শরীরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। কিছু দূর ওঠার পরেই দেখা মিলল বিরূপাক্ষ মন্দিরের। সেখানে সামান্য জিরিয়ে নিয়ে আবার শুরু হলো খাড়া সিঁড়ি বেয়ে চূড়ান্ত আরোহণ। পথের শেষ অংশটুকু সবচেয়ে বেশি খাড়া, এক পা ফেলতে গিয়েও সচেতন থাকতে হয়। কিন্তু পেছনের দিকে তাকাতেই যখন পুরো সীতাকুণ্ড শহর আর দূরের বঙ্গোপসাগরের নীল জলরেখা চোখে পড়ে, তখন সব ক্লান্তি এক নিমিষেই মিলিয়ে যায়।

"পাহাড় জয় করার আসল আনন্দ চূড়ায় নয়, বরং সেই প্রতিটা ধাপে লুকিয়ে থাকে যেখানে শরীর থামতে বলে কিন্তু মন এগিয়ে যেতে চায়।"
চূড়ায় পৌঁছানোর মুহূর্ত
চূড়া থেকে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় আর মেঘের অনন্য দৃশ্য।

ট্রেকিংয়ের প্রয়োজনীয় টিপস

সব ব্লগ পরবর্তী ব্লগ: তাঁবু বাস